কারেন্সি পেয়ার কী?
ফরেক্স ট্রেডিংয়ে আপনি যখন কোনো মুদ্রা কিনবেন বা বিক্রি করবেন, তখন সেটি একা কেনা বা বিক্রি করা হয় না। সব সময় একটি মুদ্রার বিপরীতে অন্য একটি মুদ্রা থাকে।
এই দুই মুদ্রার জোড়াকেই বলা হয় কারেন্সি পেয়ার (Currency Pair)।
একটি সহজ উদাহরণ
ধরুন, আপনি EUR/USD দেখছেন।
এখানে:
- EUR হলো ইউরো
- USD হলো মার্কিন ডলার
অর্থাৎ, EUR/USD-এর মাধ্যমে বোঝানো হচ্ছে মার্কিন ডলারের তুলনায় ইউরোর মূল্য কত।
ধরুন:
EUR/USD = 1.1000
এর মানে হলো, ১ ইউরোর মূল্য ১.১০ মার্কিন ডলার।
অর্থাৎ, আপনার কাছে যদি ১ ইউরো থাকে, সেটির মূল্য বর্তমানে ১.১০ ডলারের সমান।
Base Currency এবং Quote Currency
একটি কারেন্সি পেয়ারে প্রথম মুদ্রাটিকে বলা হয় Base Currency (মূল মুদ্রা) এবং দ্বিতীয় মুদ্রাটিকে বলা হয় Quote Currency (দাম প্রকাশের মুদ্রা)।
তাই EUR/USD-এ:
EUR = Base Currency
USD = Quote Currency
সহজভাবে মনে রাখার উপায় হলো:
প্রথম মুদ্রা = Base Currency
দ্বিতীয় মুদ্রা = Quote Currency
Buy করলে কী হয়?
আপনি যদি EUR/USD Buy করেন, তাহলে আপনি আশা করছেন ইউরোর মূল্য ডলারের তুলনায় বাড়বে।
যেমন, EUR/USD যদি 1.1000 থেকে 1.1100-এ উঠে যায়, তাহলে ইউরো ডলারের তুলনায় শক্তিশালী হয়েছে।
অন্যদিকে, আপনি যদি EUR/USD Sell করেন, তাহলে আপনি আশা করছেন EUR/USD-এর মূল্য কমবে।
আরও কিছু কারেন্সি পেয়ার
ফরেক্স মার্কেটে বিভিন্ন ধরনের কারেন্সি পেয়ার রয়েছে। যেমন:
- GBP/USD → ব্রিটিশ পাউন্ড বনাম মার্কিন ডলার
- USD/JPY → মার্কিন ডলার বনাম জাপানি ইয়েন
- AUD/USD → অস্ট্রেলিয়ান ডলার বনাম মার্কিন ডলার
- USD/CAD → মার্কিন ডলার বনাম কানাডিয়ান ডলার
প্রতিটি পেয়ারেই একটি মুদ্রার মূল্য অন্য একটি মুদ্রার তুলনায় প্রকাশ করা হয়।
সহজভাবে মনে রাখুন
Currency Pair = দুটি মুদ্রার জোড়া
আর এই জোড়ার মাধ্যমে বোঝা যায়, একটি মুদ্রার মূল্য অন্য মুদ্রার তুলনায় কত।
এটাই ফরেক্স ট্রেডিংয়ের অন্যতম মৌলিক ধারণা।
FX মেজর, মাইনর ও এক্সোটিক পেয়ার
ফরেক্স মার্কেটে বিভিন্ন দেশের মুদ্রা একে অপরের বিপরীতে লেনদেন হয়। দুটি মুদ্রাকে একসঙ্গে নিয়ে যে জোড়া তৈরি হয়, তাকে Currency Pair (কারেন্সি পেয়ার) বলা হয়।
ফরেক্সের Currency Pair সাধারণভাবে তিন ধরনের—Major, Minor এবং Exotic Pair।
১. মেজর পেয়ার (Major Pairs)
যেসব Currency Pair-এ মার্কিন ডলার (USD) এবং বিশ্বের প্রধান অর্থনীতির কোনো একটি মুদ্রা থাকে এবং যেগুলো ফরেক্স মার্কেটে সবচেয়ে বেশি লেনদেন হয়, সেগুলোকে Major Pair বলা হয়।
প্রধান Major Pairগুলো হলো:
- EUR/USD — ইউরো ও মার্কিন ডলার
- GBP/USD — ব্রিটিশ পাউন্ড ও মার্কিন ডলার
- USD/JPY — মার্কিন ডলার ও জাপানি ইয়েন
- USD/CHF — মার্কিন ডলার ও সুইস ফ্রাঁ
- AUD/USD — অস্ট্রেলিয়ান ডলার ও মার্কিন ডলার
- USD/CAD — মার্কিন ডলার ও কানাডিয়ান ডলার
- NZD/USD — নিউজিল্যান্ড ডলার ও মার্কিন ডলার
Major Pair-এ সাধারণত লেনদেনের পরিমাণ বেশি থাকে। তাই এসব পেয়ারে তারল্য (Liquidity) ভালো এবং অনেক সময় Spread তুলনামূলক কম থাকে।
২. মাইনর পেয়ার (Minor Pairs)
যেসব Currency Pair-এ মার্কিন ডলার (USD) থাকে না, কিন্তু দুটি প্রধান দেশের মুদ্রা থাকে, সেগুলোকে Minor Pair বা Cross Pair বলা হয়।
উদাহরণ:
- EUR/GBP — ইউরো ও ব্রিটিশ পাউন্ড
- EUR/JPY — ইউরো ও জাপানি ইয়েন
- GBP/JPY — ব্রিটিশ পাউন্ড ও জাপানি ইয়েন
- AUD/JPY — অস্ট্রেলিয়ান ডলার ও জাপানি ইয়েন
- EUR/CHF — ইউরো ও সুইস ফ্রাঁ
সহজভাবে বললে, USD ছাড়া দুটি প্রধান মুদ্রার জোড়াই সাধারণত Minor Pair।
৩. এক্সোটিক পেয়ার (Exotic Pairs)
যেসব Currency Pair-এ একটি প্রধান মুদ্রার সঙ্গে তুলনামূলকভাবে ছোট বা উদীয়মান অর্থনীতির কোনো দেশের মুদ্রা থাকে, সেগুলোকে Exotic Pair বলা হয়।
উদাহরণ:
- USD/TRY — মার্কিন ডলার ও তুর্কি লিরা
- USD/ZAR — মার্কিন ডলার ও দক্ষিণ আফ্রিকান র্যান্ড
- USD/MXN — মার্কিন ডলার ও মেক্সিকান পেসো
- USD/SGD — মার্কিন ডলার ও সিঙ্গাপুর ডলার
Exotic Pair-এ সাধারণত Major Pair-এর তুলনায় লেনদেন কম হয়। ফলে Spread বেশি হতে পারে এবং দামের ওঠানামাও তুলনামূলক বেশি হতে পারে।
সহজে মনে রাখুন
Major → USD + প্রধান মুদ্রা
Minor → USD ছাড়া দুটি প্রধান মুদ্রা
Exotic → প্রধান মুদ্রা + উদীয়মান/ছোট অর্থনীতির মুদ্রা
একজন নতুন Trader হিসেবে শুরুতে Major Pair সম্পর্কে ভালোভাবে শেখা সুবিধাজনক।
