শেয়ার প্রতি আয় (EPS) কী?

শেয়ার প্রতি আয় বা Earnings Per Share (EPS) হলো একটি কোম্পানি তার প্রতিটি সাধারণ শেয়ারের বিপরীতে কত টাকা নিট মুনাফা অর্জন করেছে, তার পরিমাপক। কোম্পানির মুনাফা অর্জনের সক্ষমতা এবং শেয়ারের আর্থিক কার্যকারিতা মূল্যায়নে EPS একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক।

সাধারণভাবে, কোনো কোম্পানির EPS যত বেশি, অন্যান্য বিষয় অপরিবর্তিত থাকলে কোম্পানিটির প্রতিটি শেয়ারের বিপরীতে আয় তত বেশি বলে ধরা হয়। তবে শুধু EPS বেশি হলেই কোনো শেয়ার ভালো বিনিয়োগ—এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়; অন্যান্য আর্থিক অনুপাত ও কোম্পানির সামগ্রিক অবস্থাও বিবেচনা করতে হয়।

কোম্পানিগুলো সাধারণত ত্রৈমাসিক (Quarterly) ও বার্ষিক ভিত্তিতে EPS প্রকাশ করে।

EPS নির্ণয়ের সূত্র:

শেয়ার প্রতি আয় (EPS) = কর-পরবর্তী নিট মুনাফা ÷ মোট সাধারণ শেয়ারের সংখ্যা

উদাহরণ:
ধরা যাক, ABC কোম্পানির কর-পরবর্তী নিট মুনাফা ১,০০,০০০ টাকা এবং মোট সাধারণ শেয়ারের সংখ্যা ২,০০,০০০টি

তাহলে,

EPS = ১,০০,০০০ ÷ ২,০০,০০০ = ০.৫০ টাকা

অর্থাৎ, ABC কোম্পানি প্রতিটি সাধারণ শেয়ারের বিপরীতে ০.৫০ টাকা আয় করেছে।

EPS জানা কেন জরুরি?

আপনি যে কোম্পানির শেয়ার কিনতে চান, অথবা ইতোমধ্যে যে কোম্পানির শেয়ার ধারণ করছেন, সেই কোম্পানি প্রতিটি শেয়ারের বিপরীতে কত আয় করছে তা জানা গুরুত্বপূর্ণ। EPS থেকে কোম্পানির শেয়ারপ্রতি আয় ও মুনাফা অর্জনের সক্ষমতা সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়।

এছাড়া EPS হলো মূল্য-আয় অনুপাত বা P/E Ratio (Price-to-Earnings Ratio) হিসাবের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান।

P/E Ratio = শেয়ারের বাজারমূল্য ÷ EPS

তাই কোনো শেয়ারের বাজারমূল্য তার আয়ের তুলনায় কতটা বেশি বা কম, তা বোঝার ক্ষেত্রে EPS গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

মনে রাখবেন

উচ্চ EPS সাধারণত ইতিবাচক সংকেত হলেও শুধু EPS দেখে বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়। EPS-এর পাশাপাশি P/E Ratio, NAV, ROE, ঋণ-ইকুইটি অনুপাত, নগদ প্রবাহ, কোম্পানির প্রবৃদ্ধি এবং সামগ্রিক আর্থিক অবস্থাও বিশ্লেষণ করা উচিত।