মূলধন প্রাপ্তির হার কী?

রিটার্ন অন ইক্যুইটি বা ROE (Return on Equity) হলো একটি গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক অনুপাত, যার মাধ্যমে বোঝা যায় একটি কোম্পানি শেয়ারহোল্ডারদের বিনিয়োগকৃত মূলধন ব্যবহার করে কতটা দক্ষতার সঙ্গে মুনাফা অর্জন করছে। সহজভাবে বললে, শেয়ারহোল্ডারদের ইক্যুইটির বিপরীতে কোম্পানি কত টাকা নিট মুনাফা অর্জন করছে, ROE তা নির্দেশ করে।

মূলধন প্রাপ্তির হার নির্ণয়ের সূত্র

মূলধন প্রাপ্তির হার (ROE) = (নিট মুনাফা ÷ শেয়ারহোল্ডারদের ইক্যুইটি) × ১০০

ধরা যাক, ABC কোম্পানির নিট মুনাফা ২৫,০০,০০০ টাকা এবং শেয়ারহোল্ডারদের ইক্যুইটি ৫০,০০,০০০ টাকা

তাহলে,

ROE = (২৫,০০,০০০ ÷ ৫০,০০,০০০) × ১০০ = ৫০%

অর্থাৎ, কোম্পানিটি শেয়ারহোল্ডারদের প্রতি ১০০ টাকা ইক্যুইটির বিপরীতে ৫০ টাকা নিট মুনাফা অর্জন করছে।

মূলধন প্রাপ্তির হার কেন গুরুত্বপূর্ণ?

স্টক মার্কেটে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ROE একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশক। এর মাধ্যমে একটি কোম্পানি শেয়ারহোল্ডারদের মূলধন কতটা দক্ষতার সঙ্গে ব্যবহার করে মুনাফা তৈরি করতে পারছে, সে সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়।

সাধারণভাবে, উচ্চ ও ধারাবাহিক ROE একটি কোম্পানির কার্যকর ব্যবস্থাপনা, ভালো মুনাফা অর্জনের সক্ষমতা এবং মূলধনের দক্ষ ব্যবহারের ইঙ্গিত দিতে পারে। অন্যদিকে, কম বা ক্রমাগত হ্রাসমান ROE কোম্পানির মুনাফা অর্জনের সক্ষমতা বা মূলধন ব্যবহারের দক্ষতা সম্পর্কে সতর্ক সংকেত দিতে পারে।

তবে শুধু ROE বেশি হলেই কোনো কোম্পানিকে ভালো বিনিয়োগ হিসেবে ধরে নেওয়া উচিত নয়। অতিরিক্ত ঋণের কারণেও কোনো কোম্পানির ROE কৃত্রিমভাবে বেশি হতে পারে। তাই বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় ROE-এর পাশাপাশি EPS, P/E Ratio, Debt-Equity Ratio, NAV, মুনাফার প্রবৃদ্ধি এবং নগদ প্রবাহসহ অন্যান্য আর্থিক সূচকও বিবেচনা করা উচিত।

মনে রাখবেন: ROE কোনো নির্দিষ্ট শেয়ার থেকে ভবিষ্যতে কত রিটার্ন পাওয়া যাবে তার নিশ্চয়তা দেয় না। এটি মূলত কোম্পানির অতীত ও বর্তমান আর্থিক কর্মদক্ষতা মূল্যায়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশক।