লভ্যাংশ আয় কী?
লভ্যাংশ আয় (Dividend Yield) হলো কোনো শেয়ারে বিনিয়োগ করে একজন বিনিয়োগকারী তার বিনিয়োগকৃত বাজারমূল্যের ওপর কত শতাংশ লভ্যাংশ আয় করতে পারেন, তার পরিমাপ। শেয়ারবাজারে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশক।
বাংলাদেশের পুঁজিবাজারের প্রেক্ষাপটে নিয়মিত নগদ লভ্যাংশ (Cash Dividend) প্রদানকারী কোম্পানিগুলোর প্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ তুলনামূলকভাবে বেশি। কারণ, একটি কোম্পানি তার মুনাফার একটি অংশ শেয়ারহোল্ডারদের নগদ লভ্যাংশ হিসেবে প্রদান করলে বিনিয়োগকারীরা সরাসরি অর্থপ্রাপ্তির সুযোগ পান। নিয়মিত ও স্থিতিশীল নগদ লভ্যাংশ প্রদানকারী কোম্পানিকে অনেক সময় তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগকারীরা সাধারণত এমন কোম্পানির প্রতি বেশি গুরুত্ব দেন, যেসব কোম্পানি ধারাবাহিকভাবে নগদ লভ্যাংশ প্রদান করে এবং যাদের Dividend Yield তুলনামূলকভাবে বেশি। শেয়ারের বাজারমূল্য কমে এলে একই পরিমাণ লভ্যাংশের বিপরীতে Dividend Yield বেড়ে যায়। ফলে উপযুক্ত মূল্যায়নে শেয়ার কিনতে পারলে বিনিয়োগকারীর সম্ভাব্য লভ্যাংশ আয়ও বাড়তে পারে।
অন্যদিকে, কিছু কোম্পানি নগদ লভ্যাংশের পরিবর্তে স্টক ডিভিডেন্ড বা বোনাস শেয়ার প্রদান করে। তবে স্টক ডিভিডেন্ড দেওয়া মানেই কোম্পানি খারাপ বা ভালো—এমন সিদ্ধান্ত শুধু এই একটি তথ্যের ভিত্তিতে নেওয়া উচিত নয়। কোম্পানি কীভাবে মুনাফা ব্যবহার করছে, ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনা, নগদ প্রবাহ, ঋণের পরিমাণ এবং সামগ্রিক মৌলভিত্তি—সবকিছু বিবেচনা করা প্রয়োজন।
একটি ভালো কোম্পানি সাধারণত তার মুনাফার একটি অংশ শেয়ারহোল্ডারদের লভ্যাংশ হিসেবে প্রদান করতে পারে এবং বাকি অংশ ব্যবসার সম্প্রসারণ ও ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধির জন্য পুনঃবিনিয়োগ করতে পারে। সঠিকভাবে এই পুনঃবিনিয়োগ করা হলে কোম্পানির আয় ও ব্যবসার প্রবৃদ্ধি বাড়তে পারে, যা দীর্ঘমেয়াদে শেয়ারের মূল্যেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
লভ্যাংশ হার ও Dividend Yield-এর পার্থক্য
শেয়ারের বাজারমূল্য ইস্যু মূল্য বা অভিহিত মূল্যের (Face Value) চেয়ে কম বা বেশি হতে পারে। তাই শুধু লভ্যাংশের হার (Rate of Dividend) দেখে একজন বিনিয়োগকারীর প্রকৃত লভ্যাংশ-প্রাপ্তির হার বোঝা যায় না। বিনিয়োগের বাজারমূল্যের তুলনায় লভ্যাংশের প্রকৃত হার জানতে Dividend Yield ব্যবহার করা হয়।
লভ্যাংশ আয় (Dividend Yield) = (শেয়ার প্রতি লভ্যাংশ ÷ শেয়ারের বাজারমূল্য) × ১০০
উদাহরণ
ধরা যাক, ABC কোম্পানির একটি শেয়ারের বাজারমূল্য ২৫ টাকা এবং এর Face Value ১০ টাকা। কোম্পানিটি ২০% নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে।
এক্ষেত্রে প্রতি শেয়ারে লভ্যাংশ হবে:
১০ × ২০% = ২ টাকা
অর্থাৎ, বিনিয়োগকারী প্রতি শেয়ারের বিপরীতে ২ টাকা লভ্যাংশ পাবেন।
সুতরাং,
Dividend Yield = (২ ÷ ২৫) × ১০০ = ৮%
অর্থাৎ, ABC কোম্পানির শেয়ারের বর্তমান বাজারমূল্যের ভিত্তিতে লভ্যাংশ আয় বা Dividend Yield হলো ৮%।
তবে মনে রাখতে হবে, Dividend Yield মূলত লভ্যাংশ থেকে সম্ভাব্য আয়ের একটি নির্দেশক। এটি শেয়ারের মূল্যবৃদ্ধি বা মূলধনী লাভ (Capital Gain) বিবেচনা করে না। তাই বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় Dividend Yield-এর পাশাপাশি কোম্পানির আয়, EPS, NAV, ঋণ, নগদ প্রবাহ, ব্যবসার প্রবৃদ্ধি এবং সামগ্রিক মৌলভিত্তিও বিশ্লেষণ করা উচিত।
