চলতি মূলধন অনুপাত কি?
চলতি মূলধন ও চলতি দায়ের মধ্যকার সম্পর্ককে চলতি মূলধন অনুপাত (Working Capital Ratio) বলে। এই অনুপাতের মাধ্যমে একটি প্রতিষ্ঠানের স্বল্পমেয়াদি আর্থিক সক্ষমতা ও তারল্য পরিস্থিতি সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়।
চলতি মূলধন অনুপাতের সূত্র:
চলতি মূলধন অনুপাত = চলতি মূলধন ÷ চলতি দায়
অথবা,
চলতি মূলধন অনুপাত = (চলতি সম্পত্তি − চলতি দায়) ÷ চলতি দায়
এ অনুপাতের প্রচলিত আদর্শ মান ১:১। কারণ, চলতি সম্পত্তি থেকে চলতি দায় বাদ দিলে চলতি মূলধন পাওয়া যায়। অন্যদিকে, চলতি অনুপাতের আদর্শ মান সাধারণত ২:১ ধরা হয়। তাই চলতি মূলধন অনুপাতের ক্ষেত্রে ১:১ একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশক।
সাধারণভাবে, অনুপাত যত বেশি হবে, প্রতিষ্ঠানের স্বল্পমেয়াদি দায় পরিশোধের সক্ষমতা এবং তারল্য অবস্থাও তত ভালো বলে বিবেচিত হয়। তবে অতিরিক্ত বেশি অনুপাতও সবসময় ইতিবাচক নয়, কারণ এটি প্রতিষ্ঠানের সম্পদ যথাযথভাবে ব্যবহার না করার ইঙ্গিত দিতে পারে।
চলতি মূলধন অনুপাত কেন জানা জরুরি?
স্টক মার্কেটে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে একটি কোম্পানির আর্থিক শক্তি ও স্বল্পমেয়াদি দায় পরিশোধের সক্ষমতা বোঝার জন্য চলতি মূলধন অনুপাত গুরুত্বপূর্ণ। এর মাধ্যমে বিনিয়োগকারী বুঝতে পারেন, কোম্পানির চলতি দায় পরিশোধের পর হাতে কতটা কার্যকর চলতি মূলধন থাকে।
চলতি মূলধন অনুপাত বিশ্লেষণের মাধ্যমে—
- কোম্পানির স্বল্পমেয়াদি আর্থিক সক্ষমতা সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়।
- চলতি দায় পরিশোধে কোম্পানি কতটা সক্ষম তা বোঝা যায়।
- কোম্পানির তারল্য বা Liquidity অবস্থার ধারণা পাওয়া যায়।
- আর্থিক ঝুঁকি মূল্যায়নে সহায়তা করে।
- একই খাতের অন্যান্য কোম্পানির সঙ্গে আর্থিক সক্ষমতা তুলনা করা যায়।
- বিনিয়োগের আগে কোম্পানির আর্থিক অবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক যাচাই করা সম্ভব হয়।
তবে শুধু চলতি মূলধন অনুপাত দেখে কোনো কোম্পানির শেয়ার কেনা বা বিক্রির সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়। Debt-to-Equity Ratio, Current Ratio, Profitability, EPS, Operating Cash Flow, ROE এবং কোম্পানির ব্যবসায়িক অবস্থাসহ অন্যান্য মৌলিক সূচকের সঙ্গে মিলিয়ে বিশ্লেষণ করলে বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত আরও কার্যকর হতে পারে।
